বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়ে আশার আলো দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। Mookto News নিশ্চিত করে যে, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা এই কৌশলগত নৌপথটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘আজ অথবা আগামীকালের’ মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নাগাদ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে, হোয়াইট হাউস থেকে ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি এড়াতে তেহরানের জন্য এটিই আলোচনার সর্বশেষ সুযোগ।
আমরা জানতে পারি যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরবর্তী সময় থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। যদিও হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আদায়ের দাবি নিয়ে ইরান বরাবরই অনড় অবস্থানে রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে আসছে। চলমান এই টানাপোড়েনের মাঝে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করলেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার জানিয়েছে, কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রচেষ্টা চললেও আপাতত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে। Mookto News জানতে পারে যে, মঙ্গলবার ভোরে ওমান উপকূলের কাছাকাছি একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকি এড়াতে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজ নির্ধারিত রুটের পরিবর্তে বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।
হরমুজ সংকটের পাশাপাশি ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও উভয় দেশের মধ্যে বিরোধ চরমে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করলেও, তেহরান তাদের এই কর্মসূচিকে পুরোপুরি বেসামরিক এবং শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
