যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে তেলের দরপতন। Mookto News জানতে পারে যে, জ্বালানি তেলের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কাটিয়ে নতুন করে চুক্তির সম্ভাবনার সৃষ্টি হওয়ায় মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) তেলের দাম গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি সপ্তাহেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে।
এই সংবাদের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় পাঁচ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। একই ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দরও পাঁচ শতাংশের অধিক হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারে স্থিতিশীল হয়েছে। গত ১৩ জুলাইয়ের পর এটিই জ্বালানি তেলের সর্বনিম্ন বাজারদর।
আমরা জানতে পারি যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ইরান ও ওমানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মঙ্গলবারের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ কমানোর একাধিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় বাজারের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। একদিকে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখলেও, অন্যদিকে ইরানকে বড় ধরনের সামরিক পরিণতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং এখান থেকে রাজস্ব আদায়ের দাবিকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের দ্বন্দ্ব মূলত আবর্তিত হচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিটি ঘিরে চলমান এই পরিস্থিতির দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
