সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল বীভৎস দৃশ্য: নিজের মায়ের খুনি ছেলে! “Mookto News”

ঢাকার দক্ষিণখানে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাহবুব আরা বেগমকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত আবু তালহা সজীব আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। Mookto News নিশ্চিত করে যে, অভিযুক্ত সজীব সম্পর্কে নিহত মাহবুব আরা বেগমের দেবরের নাতি। স্বীকারোক্তি প্রদানের পর আদালত তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে হাজির করেন। শুনানি শেষে বিচারক আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর সিদ্দিক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আমরা জানতে পারি যে, প্রায় নয় মাস আগে স্বামীর মৃত্যুর পর মাহবুব আরা বেগম দক্ষিণখানের দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকার নিজের ফ্ল্যাটে একা বসবাস করছিলেন। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তার ছেলে মাহবুব হাসান ফ্ল্যাটের ভেতর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। নিয়মিত মায়ের খোঁজখবর নিলেও বৃহস্পতিবার ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে তিনি মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরবর্তীতে রাতের বেলা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েই তিনি হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্রটি দেখতে পান।

Mookto News জানতে পারে যে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটের দিকে নিহতের আত্মীয় আবু তালহা সজীব আরও কয়েকজনের সঙ্গে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটে প্রবেশের পর মাহবুব আরা বেগমের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর অপরাধীরা নিহতের সোনার দুল ছিনিয়ে নেয় এবং ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে লক করে পালিয়ে যায়।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে মাহবুব হাসান শুক্রবার দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সিসিটিভি ফুটেজকে প্রধান আলামত হিসেবে বিবেচনা করে পুলিশ গাওয়াইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবু তালহা সজীবকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে তিনি নিজের দায় স্বীকার করেছেন। পুলিশ এখন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *