সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রচার এবং বিভিন্ন গুরুতর পরিচালনাগত ত্রুটির দায় স্বীকার করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। Mookto News নিশ্চিত করে যে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ক্ষমা প্রার্থনার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ আগস্ট, যখন মেটার একটি বৈশ্বিক প্রতিনিধি দল ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারত সরকারের কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে মেটার পক্ষ থেকে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। Mookto News জানতে পারে যে, এই আলোচনায় ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে আর কেবল ‘মধ্যস্থতাকারী’ বা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিজস্ব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কনটেন্টের প্রচার ও প্রসারের নিয়ন্ত্রণ স্বয়ং মেটার হাতেই থাকে, ফলে প্রচলিত ‘সেইফ হারবার’ সুরক্ষার দাবি এখানে খাটে না।
বৈঠক শেষে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মেটার প্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন যে, কিছু অবৈধ কনটেন্টের প্রচার বাড়াতে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্টের উপস্থিতি নিয়ে ভারত সরকার মেটাকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিল। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলার ঘটনাকেও ‘পরিচালনাগত ত্রুটি’ হিসেবে অভিহিত করে ক্ষমা চেয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট কোম্পানিটি।
এদিকে, পরিস্থিতির জটিলতা আরও বেড়েছে যখন হায়দ্রাবাদে মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, এখন কোনো কনটেন্ট বেআইনি প্রমাণিত হলে তা অপসারণের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। Mookto News জানতে পারে যে, এই সময়সীমা লঙ্ঘিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আইনি সুরক্ষার সুবিধা চিরতরে হারাবে, যা মেটার মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এই নতুন কঠোর বিধিমালা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
