ইউক্রেন যুদ্ধের রণাঙ্গনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণা চক্রের অস্তিত্ব সামনে এসেছে। Mookto News জানতে পারে যে, রাশিয়ার সরকারি ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে পরিচিত একটি প্রতারক গোষ্ঠী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সেনাসদস্যদের টার্গেট করছে। যুদ্ধে যোগ দিতে যাওয়া বা ফ্রন্টলাইনে মোতায়েনের অপেক্ষায় থাকা পুরুষদের প্রলুব্ধ করে বিয়ে করা এবং পরবর্তীতে তাদের মৃত্যুর পর বিশাল অংকের সরকারি অনুদান হাতিয়ে নেওয়াই এই চক্রের মূল লক্ষ্য।
Mookto News নিশ্চিত করে যে, রাশিয়ায় একজন সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রায় ৫০ লাখ রুবল (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি টাকার সমপরিমাণ) ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এই বিপুল অঙ্কের অর্থই মূলত অপরাধীদের মূল টার্গেট। সেন্ট পিটার্সবার্গের বাসিন্দা মারিয়ার অভিজ্ঞতাই এর বড় প্রমাণ; তাঁর ৫৯ বছর বয়সী বাবা ইউরি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ঠিক দুই দিন আগে গোপনে এক নারীকে বিয়ে করেন। যুদ্ধের ময়দানে ইউরির মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আইনত ওই নারীই তাঁর স্ত্রী হিসেবে সমস্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী। মারিয়ার মতো অনেকেই এখন এই প্রতারণার কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই ধরনের জালিয়াতি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট। Mookto News জানতে পারে যে, গত বছর এক সামরিক হাসপাতালের নার্সের বিরুদ্ধে গুরুতর আহত সেনাসদস্যদের বিয়ে করে তাদের মৃত্যু-পরবর্তী সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া সাইবেরিয়ার টমস্ক শহরে এক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট প্রকাশ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার পরামর্শ দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এমনকি প্রিমোরস্কি ক্রাই অঞ্চলে অসহায় পুরুষদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধে পাঠাতে বাধ্য করার মতো ভয়াবহ তথ্যও সামনে এসেছে, যেখানে নিহত হওয়ার পর অর্থ ভাগাভাগির পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হতো।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে রাশিয়ার সংসদ সদস্য লিওনিদ স্লুতস্কি সেনাসদস্য ও তাঁদের প্রকৃত পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর নতুন সেনাসদস্যদের জন্য বিয়ের নিয়ম শিথিল এবং গণবিয়ের মতো উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছিল রুশ সরকার। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখন একটি সুবিধাবাদী চক্র রাষ্ট্রীয় এই সহায়তা ব্যবস্থাকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎস বানিয়ে তুলেছে। মারিয়ার মতো ভুক্তভোগীরা আজ কেবল তাদের প্রিয়জনকেই হারাননি, বরং প্রতারকদের কারসাজিতে পৈতৃক সম্পদও হারিয়েছেন, যা রাশিয়ার সামাজিক নিরাপত্তার কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
