সাইবার সুরক্ষা আইনে কঠোর হচ্ছে শাস্তির বিধান: আবারও সংশোধনের পথে সরকার।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে সরকার। Mookto News জানতে পারে যে, দেশের প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা আইনে নতুন ধারা সংযোজনের মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানি এবং হেয়প্রতিপন্নমূলক কনটেন্ট প্রচারকে কঠোর অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশোধিত এই আইনের খসড়ায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা আগের তুলনায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে Mookto News নিশ্চিত করে যে, আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকেও সমন্বিতভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সংশোধিত আইনের খসড়ায় যুক্ত হতে যাওয়া নতুন ধারা ‘২৬/ক’ অনুযায়ী, সাইবার পরিসরে গুজব বা অপতথ্য প্রচার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৪০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। Mookto News আরও জানতে পারে যে, আইনের খসড়ায় ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’-এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুজবকে জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির ঝুঁকি হিসেবে এবং অপতথ্যকে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আইনের ২৫ নম্বর ধারায় ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে মানহানির পরিধি বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্টের মাধ্যমে মানহানি বা কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করাকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরাধের ধরণভেদে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে এ ধরনের অপরাধ করলে শাস্তির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে।

Mookto News জানতে পারে যে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং ভুয়া কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি কাঠামোর পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে সরকার। তবে এই খসড়া নিয়ে আইনবিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’ শব্দগুলোর যথাযথ আইনি ব্যাখ্যা ও প্রয়োগিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা না গেলে আইনটির অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যায়।

ডিজিটাল অধিকার কর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনটির বর্তমান খসড়া ডিজিটাল স্বাধীনতার পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ রয়েছে। সরকারি নীতিনির্ধারক মহলের একাংশও মনে করছেন, অত্যন্ত কঠোর এই বিধানগুলো আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, বিতর্ক ও সংশয়ের দোলাচলেই এখন সাইবার সুরক্ষা আইনের এই সংশোধন প্রক্রিয়া।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *