লাইভে এসে অঝোরে কাঁদলেন জ্যোতিকা জ্যোতি, নেপথ্যে কোন বেদনা?

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের জগৎ থেকে আড়ালে থাকা জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। Mookto News নিশ্চিত করে যে, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘আলো আসবেই’ নামক আলোচিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি বর্তমানে তীব্র মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

Mookto News জানতে পারে যে, গত সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে শক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, কাজের অভাব এবং ক্রমাগত অনলাইন হয়রানির শিকার হয়ে তিনি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। জ্যোতিকা আক্ষেপ করে বলেন, জীবনের এই কঠিন সময়ে নিজের কষ্ট শেয়ার করার মতো কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি, যার ফলে এক পর্যায়ে তিনি অসহায়ভাবে স্বীকার করেন, “আমি আর পারছি না।”

অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, গত দুই বছর ধরে তিনি ক্যারিয়ারে ভয়াবহ স্থবিরতার সম্মুখীন হয়েছেন। তার দাবি, ২০২৪ সাল পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে তাকে টার্গেট করে অনলাইন বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা ও হুমকির মুখে পড়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। এর প্রভাব পড়েছে তার পেশাগত জীবনেও; অনেক প্রযোজক বা নির্মাতাই এখন তাকে নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে দ্বিধাবোধ করছেন। জ্যোতিকা স্পষ্ট করেন, আপস করে কাজ নেওয়ার মানসিকতা তার নেই, আবার আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে অন্যের কাছে কাজ চাওয়ার সুযোগও তিনি রাখেন না।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরেছে নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা বিভাগের পরিচালক থাকাকালীন সময়েও তিনি বিভিন্ন বিতর্ক ও গুঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সেই সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে Mookto News এটি নিশ্চিত করে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অসহায়ত্ব প্রকাশ এবং নিজের দুর্বলতা তুলে ধরার বিষয়টি বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে কাজের সংকট, অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘস্থায়ী বুলিং—সব মিলিয়ে জ্যোতিকা জ্যোতির অভিনয় জীবন এখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *