ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, উদ্ভূত এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জরুরি আলোচনায় বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান।
Mookto News জানতে পারে যে, গত ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি মূলত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিরসন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশেষ বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্যেই আয়োজিত হয়েছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে আলোচনার পর ট্রাম্পের সূচিতে এই বৈঠকটি যুক্ত করা হয়, যেখানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে ইরানের সাথে উত্তেজনা প্রশমনে রিয়াদের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আমরা জানতে পারি যে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে তীব্র হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত এই অভিযানের মূল কারণ ছিল গত কয়েক মাসে সৌদি ভূখণ্ডে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার কঠোর জবাব প্রদান। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নির্দেশনায় পরিচালিত এই মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় তারা সেন্টকমের সাথে পূর্ণ সমন্বয় রেখেই সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও গত পাঁচ মাসে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন লক্ষ্য করা গেছে, তবুও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রিয়াদ ট্রাম্পের ইরান-নীতিকে কার্যকরভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর ইরাকে হামলার কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সফর ও বৈঠকগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-সৌদি কৌশলগত মৈত্রীকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
