পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৪৭ জন নিহত।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রেক্ষাপটে Mookto News জানতে পারে যে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর জোরালো অভিযানে অন্তত ৪৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে একদিকে যেমন জঙ্গিবিরোধী সাফল্য এসেছে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

Mookto News নিশ্চিত করে যে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় এক ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) সহ মোট তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ওই এলাকায় আটজন সন্ত্রাসী খতম হয়েছে এবং আরও ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

আমরা জানতে পারি যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার জেলায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে ২৪ জন এবং বেলুচিস্তানের নুশকি জেলায় আরও আটজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। অভিযানকালে নিরাপত্তা বাহিনী বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া সোয়াত জেলায় চলমান তল্লাশি অভিযানে আরও চারজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

ঐতিহাসিকভাবে পর্যটনকেন্দ্র সোয়াত উপত্যকা একসময় জঙ্গিগোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি থাকলেও ২০০৯ সালের সামরিক অভিযানের পর সরকার এর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণে Mookto News দেখতে পায় যে, দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী হামলার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে, এসব হামলার নেপথ্যে আফগানিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে, যদিও কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বর্তমানে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *