বিএনপির ক্ষমতায় আসাকে ‘ইতিবাচক’ দেখছে ভারত

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং দলটির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে ভারত। Mookto News নিশ্চিত করে যে, এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই ইতিবাচকতার পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত প্রভাব নিয়ে নয়াদিল্লি যে বেশ উদ্বিগ্ন, তাও স্পষ্ট হয়েছে ভারতীয় পার্লামেন্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।

ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলো বিস্তারিত উঠে এসেছে। Mookto News জানতে পারে যে, গত বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপিত এই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী সময়কাল এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ভারতের ‘পরিমিত ও কৌশলগত অ-হস্তক্ষেপ’ নীতির প্রতিফলন ঘটেছে। পরবর্তীতে নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় ও নতুন সরকার গঠনকে ভারত কূটনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানানোর মাধ্যমে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, উভয় দেশই দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে সমাধান করতে আগ্রহী।

আশ্রয়প্রার্থী শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারত তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দিলেও ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ বিষয়ক আইনগত আবেদনগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তবে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্প, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির আধুনিকায়ন এবং পেকুয়া সাবমেরিন ঘাঁটির মতো কৌশলগত অবকাঠামোয় চীনের বিনিয়োগকে ভারত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। সংসদীয় কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী, ভারত সরকারকে বাংলাদেশে বিদেশি শক্তির কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিবেদনে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন ও তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে এবং খুব শীঘ্রই নতুন সরকারের সাথে আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিএসএফ ও বিজিবির যৌথ টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানো হয়েছে।

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনেও ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। Mookto News জানতে পারে যে, বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি কেন্দ্র থেকে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার ভিসা প্রদান করা হচ্ছে, যার সিংহভাগই চিকিৎসা সংক্রান্ত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা অটুট রাখতে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ বা সিইপিএ (CEPA) দ্রুত কার্যকর করার সুপারিশ করেছে কমিটি। সবশেষে, আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও তাদের ওপর হামলা সংক্রান্ত ঘটনাগুলোকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার প্রত্যাশা করে ভারত।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *