গ্যাস সংকটে দিশেহারা সিএনজি চালকরা: আয় কমেছে অর্ধেক, অনিশ্চয়তায় জীবিকা।

রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কবলে পড়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। Mookto News নিশ্চিত করে যে, জ্বালানি সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মূল্যবান কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। ট্রিপের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় চালকদের দৈনিক আয় তলানিতে ঠেকেছে, অথচ মালিকপক্ষের নির্ধারিত দৈনিক জমার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকায় আর্থিক চাপে পিষ্ট হচ্ছেন এই পেশাজীবীরা।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, গ্যাসের অপেক্ষায় শত শত সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। গ্যাসের অভাবে অনেক চালককে অগত্যা নিজ হাতেই গাড়ি ঠেলে পাম্পের লাইনে এগিয়ে নিতে দেখা গেছে। Mookto News জানতে পারে যে, জ্বালানির জন্য এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

মেরুল বাড্ডার এক ফিলিং স্টেশনে কথা হয় ষাটোর্ধ্ব চালক নরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ২২০ টাকার গ্যাস সংগ্রহ করে সারাদিনে যে আয় হয়েছে, তার সিংহভাগই চলে যাচ্ছে মালিকের জমার পেছনে। নরুল ইসলামের ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিনশেষে হাতে থাকা ৫৫০ টাকা দিয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ পূর্বের স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক আয় ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার ঘরে থাকত। একই অভিযোগ সাইফুলের কণ্ঠেও, যিনি জানান যে, গ্যাসের অভাবে ঠিকমতো খাওয়া ও বিশ্রাম নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

Mookto News অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে রাজধানীতে একটি সিএনজি অটোরিকশার দৈনিক জমার পরিমাণ ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা। তীব্র সংকটের মুখেও মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে জমার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কোনো দিন জমার পুরো টাকা দিতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে তা পরিশোধের জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করা হয়।

রাজধানীর তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় চালকদের অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চালকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং সংকটকালীন সময়ে মালিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দৈনিক জমার পরিমাণ পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, হাজার হাজার সিএনজি চালক পেশা ছাড়তে বাধ্য হবেন এবং পরিবহন খাতে এক বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *