বিপ্লবের দুই বছর পরও অধরা জনস্বস্তি: সংকটে নাহিদ ইসলাম।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের জীবনে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। Mookto News জানতে পারে যে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম ৫ আগস্টকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। Mookto News নিশ্চিত করে যে, তাঁর মতে, এটি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং দেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের প্রতীক। তবে স্বাধীনতার এতো বছর পরও একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ঘাটতি রয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।

নাহিদ ইসলামের মতে, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ব্যর্থতা, দমন-পীড়নের সংস্কৃতি এবং গণতান্ত্রিক সংকটের ফলে দেশে এক পর্যায়ে ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ জেঁকে বসেছিল। এর বিরুদ্ধেই মূলত জনগণের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। Mookto News তথ্য সংগ্রহ করেছে যে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শ্রমিক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। এই গণআন্দোলনে চৌদ্দ শতাধিক শহীদ এবং ত্রিশ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যা ৫ আগস্টের বিজয়ের ভিত তৈরি করেছে।

আক্ষেপ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের বিজয়ের পরও শহীদদের আকাঙ্ক্ষাগুলো আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসহযোগিতামূলক মনোভাব, সংস্কারবিরোধী মানসিকতা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের কারণে রাষ্ট্র বর্তমানে নতুন করে সংকটের মুখোমুখি। Mookto News পর্যবেক্ষণ করেছে যে, প্রশাসনিক দুর্বলতাগুলোও এক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। একই সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল রাষ্ট্রীয় স্তরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবি জানান তিনি।

সবশেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ ও শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *