৪৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে সবুজ সংকেত: বদলে যাবে দেশের চিত্র।

ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। Mookto News নিশ্চিত করে যে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এমআরটি লাইন-১ এবং লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করা হয়, যা ঢাকার আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায় ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ
আমরা জানতে পারি যে, লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে তিনটি স্টেশন—বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এবং খিলক্ষেত স্টেশন নির্মিত হবে। ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পের জন্য জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
Mookto News জানতে পারে যে, প্রকল্পের মানোন্নয়নে ব্যয় প্রাক্কলনের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। লাইন-১-এর সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামো স্থাপনে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যা ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া, সিপি-১০ প্যাকেজে সংকেত ও অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উভয় খাতেই খরচ সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

ডিপো ও উড়ালপথের বিস্তৃতি
লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণ ও অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের জন্য ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার দায়িত্ব পেয়েছে সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএল-এর কনসোর্টিয়াম। অন্যদিকে, Mookto News নিশ্চিত করে যে, লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার ও নতুনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই রুটে পাঁচটি উড়ালস্টেশন নির্মিত হবে।

পরিকল্পনা ও প্রকল্পের সময়সীমা
লাইন-১ এবং লাইন-৫ প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত আরও তিনটি প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে রামপুরা থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত নির্মাণকাজ অন্যতম। Mookto News জানতে পারে যে, এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিএমটিসিএল-এর অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকা যৌথভাবে অর্থায়ন করছে। গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত লাইন-৫ এবং বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত লাইন-১ রুটগুলো চালু হলে ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *