গাজায় ইসরায়েলি ভয়াবহ বিমান হামলা: রক্তে ভাসছে উপত্যকা | “Mookto News”

গাজা উপত্যকায় নতুন করে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করেছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, এই হামলায় অন্তত একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১২ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া এই হামলায় একটি মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত শত শত মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত তাবুগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গাজা সিটির ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমসিএ) ভবনের সন্নিকটে অবস্থিত আল-মুত্তাকিন মসজিদে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি, মধ্য ও উত্তর গাজার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা পরিচালনা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। Mookto News জানতে পারে যে, হামলার পূর্বে এলাকাটিতে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত সামান্য সময় দেওয়া হয়েছিল, ফলে অনেক মানুষই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি।

একই সময়ে গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে চালানো অপর এক হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, একটি ব্যস্ত বাজারে সমবেত হওয়া ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজাবাসীর মধ্যে যেকোনো মুহূর্তের ভয়াবহ হামলার চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংঘাতের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, গত রোববার ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা একটি নতুন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার আওতায় গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সদস্যদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে, গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি সহিংসতা ও ভূমি দখলের ঘটনা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বেথলেহেমের কাছে আবু নাজিম এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করলে সেখানকার আটজন ফিলিস্তিনি পরিবার সহায়-সম্বল হারিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ভবনের দেয়ালে প্ররোচনামূলক স্লোগান লিখে পুরো বাড়িটিতে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন দেয়। এছাড়া, জেনিন গভর্নরেটের প্রায় ২০ হেক্টর ফিলিস্তিনি জমি সামরিক আদেশের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করার তথ্য নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা। সামরিক সড়ক নির্মাণ এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই ইসরাইল এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *