গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র আপত্তি ও উদ্বেগ জানিয়েছে ইসরাইল। Mookto News নিশ্চিত করে যে, কূটনৈতিক স্তরে এই মতপার্থক্য তৈরি হওয়া সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে নীতিগত অবস্থানের এই ফাটল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কাঠামোতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে যে অস্পষ্টতা রয়েছে, তা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। Mookto News জানতে পারে যে, তেল আবিব আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে—প্রকাশিত পরিকল্পনাটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার দাবি বা অবস্থানকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। অন্যদিকে, হামাস গত শুক্রবার দাবি করেছে যে, তারা নতুন কোনো ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কমিটির কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে প্রস্তুত।
ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে হামাস নতুন করে সদস্য সংগ্রহ ও অস্ত্র মজুত করছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। Mookto News-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এখনো ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় প্রায় ১,২০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। সমান্তরালে, ইসরাইলের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, এই একই সময়ে সংঘর্ষে তাদের পাঁচজন সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প এর আগে হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে গাজা যুদ্ধের অবসানে ‘একটি বড় অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নীরবতা পালন করা হয়েছে। বরং ইসরাইলি মুখপাত্রের সাফ কথা, হামাস যদি স্থায়ী ও যাচাইযোগ্যভাবে নিরস্ত্র না হয়, তবে গাজা উপত্যকায় বিদ্যমান নিরাপত্তা ঝুঁকি কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রকাশিত রোডম্যাপে গাজায় অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসরাইলের অবস্থান এখন পর্যন্ত অনড়—হামাসের চূড়ান্ত নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে নারাজ। এমতাবস্থায়, ট্রাম্পের এই শান্তি উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
