ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বজায় রাখতে নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধিতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত।

চীন কর্তৃক বিশ্বের বৃহত্তম নৌবহর গঠন এবং পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে চীনা প্রযুক্তিতে নির্মিত অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের অন্তর্ভুক্তি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, এই কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত নিজেদের নৌ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী এক দশকের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০০-এর মাইলফলক স্পর্শ করানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Mookto News জানতে পারে যে, বিদেশনির্ভরতা কাটিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ভারত দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত যুদ্ধজাহাজের ওপর জোর দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সম্প্রতি ভারতীয় নৌবহরে যুক্ত হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ এবং ডুবোজাহাজ ধ্বংসকারী বিশেষায়িত যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস মালভান’। দেশীয় শিপইয়ার্ডে তৈরি এই জাহাজগুলো ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার প্রতিফলন। বিশেষ করে নীলগিরি শ্রেণির ষষ্ঠ জাহাজ হিসেবে মহেন্দ্রগিরির অন্তর্ভুক্তি নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

বর্তমানে প্রায় ১৫০টি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে গঠিত ভারতীয় নৌবাহিনীতে আরও ৫০টি জাহাজ নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। Mookto News তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনী বর্তমানে প্রতি ছয় সপ্তাহ অন্তর একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ বহরে যুক্ত করার মতো গতিশীল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টি যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কেবল সম্ভবই নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। কৌশলগত প্রয়োজনে বর্তমানে ভারত অন্তত দুটি অত্যন্ত গতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহরকে সর্বদা প্রস্তুত রাখতে চাচ্ছে।

তবে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান রয়েছে। Mookto News বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, বিশেষায়িত ইস্পাত আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং শিপইয়ার্ডগুলোর পুরনো অবকাঠামো আধুনিকায়নের অভাব ভারতের এই গতিকে কিছুটা ধীর করতে পারে। তা সত্ত্বেও, ‘প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো’ প্রকল্পের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ভারতের সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *