আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। Mookto News নিশ্চিত করে যে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং চলমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
Mookto News জানতে পারে যে, ঢাকা সফরকালে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এছাড়া তিনি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। সফরের অংশ হিসেবে তার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সার্জিও গরের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্টভাবে বোঝা। বিশেষ করে, গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর—এই ঘটনাক্রমের পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। Mookto News জানতে পারে যে, ওয়াশিংটন মূলত ঢাকার এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহী।
সার্জিও গর বর্তমানে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান অগ্রগতি এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত বোঝাপড়া সম্পর্কে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা, রাশিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা—এই বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠকের পার্শ্ব বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাক্ষাতে সার্জিও গর উপস্থিত ছিলেন, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সার্জিও গর হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিসের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
