লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে টোল বা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। Mookto News নিশ্চিত করে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল মানদেব প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতেই ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি এমন কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকরের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবে গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে জারি করা সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক বাণিজ্যে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমরা জানতে পারি যে, চলতি বছরের জুলাই মাসে তেহরান সফরের সময় হুথি নেতাদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই শুল্ক আদায়ের পরিকল্পনাকে উৎসাহিত করছে। তবে একটি ব্যতিক্রমী বিষয় হলো, চীনের জাহাজগুলোকে এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হতে পারে। Mookto News জানতে পারে যে, বেইজিংয়ের সঙ্গে হুথিদের আগে থেকেই সরাসরি সমঝোতা রয়েছে, যার ফলে চীনা জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই ওই অঞ্চল দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, এই শুল্ক ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য হুথিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে ইরানি উপদেষ্টারা ইয়েমেনে অবস্থান করছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরা আল-জুবা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এটি মূলত লোহিত সাগরে হুথিদের আধিপত্য বিস্তারের একটি পরিকল্পিত নীলনকশা। যদিও ওমানসহ বেশ কিছু উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় দেশ এই প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করেছে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর পক্ষে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে শতভাগ সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বাব-এল মানদেব প্রণালি হলো বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন। Mookto News নিশ্চিত করে যে, এই পথটি বন্ধ বা এর ওপর ফি আরোপ করা হলে তা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চেইনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিকল্প পথে যেতে হলে জাহাজগুলোকে সুয়েজ খাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে যেতে হবে, যা সময় ও ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়—১৬ দিনের পরিবর্তে যা ৫০ দিনে গিয়ে ঠেকতে পারে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালেই নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে হুথিরা প্রায় ১৮ কোটি ডলার অর্থ আদায় করেছিল, যা তাদের এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতাকেই প্রমাণ করে।
