মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এক চরম সংকটের দিকে মোড় নিয়েছে। Mookto News জানতে পারে যে, ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকসহ প্রাণহানির ঘটনায় পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিমান হামলায় একটি আবাসিক ভবন বিধ্বস্ত হয়ে একই পরিবারের তিনজন সদস্য নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এই ঘটনার পর ইরান এবং তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ও কঠোর সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
Mookto News নিশ্চিত করে যে, বুশেহর প্রদেশের বিভিন্ন শহরসহ কেশম আইল্যান্ডে চালানো এই বিমান হামলার প্রতিবাদে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। উত্তেজনা নিরসনের পরিবর্তে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে তেহরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকির বার্তা দিয়েছে। ইরানের স্পষ্ট ভাষ্য, যেকোনো বহিরাগত শক্তিকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং মার্কিন হুমকি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই নৌপথ কার্যত অকার্যকর থাকবে।
আমরা জানতে পারি যে, একই সময়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন যোদ্ধা ও চারজন ইরানি সামরিক উপদেষ্টা নিহত হয়েছেন। ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে বাগদাদ ও তেহরান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই সংঘাতের রেশ ধরে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করেছে জর্ডানের সামরিক বাহিনী।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে ক্রমবর্ধমান এই সামরিক সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ এই অঞ্চলকে বড় ধরনের যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
