মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি প্রক্রিয়ায় তার হাতকড়া পরানোর বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। Mookto News জানতে পারে যে, এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন লতিফ সিদ্দিকীর ছোট ভাই ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাদের সিদ্দিকী হাতকড়া পরানোর বিষয়টিকে এক প্রকার ব্যঙ্গাত্মক উপমায় ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এটিকে কোনো খারাপ বিষয় হিসেবে দেখছি না। বিয়ের সময় নববধূর হাতে যেমন চুড়ি পরানো হয়, হাতকড়াকেও আমরা ঠিক সেভাবেই দেখি। আমাদের জীবনেও বহুবার হাতকড়া পড়েছে, তাই এটি সরকারের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।’
আমরা জানতে পারি যে, লতিফ সিদ্দিকীর প্রতি আইনি আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার ভাই। কাদের সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, একজন নিষ্পাপ মানুষকে অন্যায়ভাবে মামলার আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আদালতে প্রতিটি অভিযুক্ত ব্যক্তির কথা বলার অধিকার থাকলেও লতিফ সিদ্দিকীকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সম্মানী ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা বাঞ্ছনীয়।
লতিফ সিদ্দিকীর বয়স বর্তমানে ৮৭ বছর উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যদি কোনো মিথ্যা অভিযোগে তার ফাঁসিও কার্যকর করা হয়, তবে আমরা তা মেনে নেব। কারণ স্রষ্টা তাকে সেই গ্লানি থেকে মুক্তি দেবেন।’
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কাদের সিদ্দিকী তা সরাসরি নাকচ করে দেন। Mookto News নিশ্চিত করে যে, কাদের সিদ্দিকীর ভাষ্যমতে, লতিফ সিদ্দিকী সে সময় পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী বা ‘কিচেন কেবিনেটে’ তার কোনো প্রভাব ছিল না। মূলত ওই সময় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বিতর্কিত অবস্থানে ছিলেন।
পরিশেষে, এই আইনি লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে সচেতন মহলে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। Mookto News এই মামলার পরবর্তী সকল আপডেট পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
