দেশজুড়ে চলমান টানা বর্ষণ ও বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার নেতিবাচক প্রভাবে রাজধানী ঢাকার কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, সরবরাহ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাঁচা মরিচের বাজারে, যার ফলে পণ্যটির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
Mookto News-এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ক্রেতাদের চড়া দামে কাঁচা মরিচ কিনতে দেখা গেছে। দুই সপ্তাহ আগেও যে কাঁচা মরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেত, তা বর্তমানে ৩০০ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। নিত্যপণ্যের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
বাজার বিশ্লেষণে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেতে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে এবং বিভিন্ন উৎপাদনশীল অঞ্চল থেকে ঢাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল ইসলামের ভাষ্যমতে, পাইকারি বাজারে সংকটের কারণে খুচরা পর্যায়ে দামের এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে ধুপখোলা বাজারে আগত ক্রেতা মঈনুল আহসান অভিযোগ করেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তিনি বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
কাঁচা মরিচের পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে গোল বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কচুর লতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ধুন্দুল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির জন্য প্রতি কেজিতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দামও ৭০ থেকে ৯০ টাকায় ঠেকেছে।
তবে বর্ষার এই বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে পেঁপে, যা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলোর তুলনায় কারওয়ান বাজারে সবজির দাম কিছুটা সহনীয় হলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতি ভোক্তাদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
