স্পেনের সেউটায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতে আটকা শত শত অভিভাবকহীন শিশু-কিশোর: উদ্বেগ বাড়ছে “Mookto News”-এর প্রতিবেদনে।

উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, মরক্কো সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টার পর শত শত অভিভাবকহীন শিশু ও কিশোর ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাদের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় আশ্রয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আমরা জানতে পারি যে, গত বৃহস্পতিবার উন্নত জীবনের সন্ধানে মরক্কো থেকে কয়েক হাজার অভিবাসী আকাশপথ ও সীমান্ত বেড়া টপকে সেউটায় প্রবেশের মরিয়া চেষ্টা চালান। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এই সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলে বেশিরভাগকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার অভিবাসী স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন, যার মধ্যে ৮০০-এরও বেশি শিশু ও কিশোর রয়েছে, যাদের সাথে কোনো অভিভাবক নেই।

ভয়াবহ এই যাত্রার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়। Mookto News জানতে পারে যে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর আট বছর বয়সী ভাই পানিতে ডুবে মারা যায়। স্প্যানিশ পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করলেও সেই কিশোরী তার মায়ের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না মেলায় তাকে বর্তমানে স্থানীয়দের সহায়তায় খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে হচ্ছে।

স্পেনের বর্তমান আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়ের সুযোগ সীমিত হলেও অভিভাবকহীন শিশুদের ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য। দেশটির শিশু সুরক্ষা আইন অনুসারে, একা থাকা নাবালকদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও সরকারি তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। সম্প্রতি এক অভিভাবকহীন মরক্কান শিশুকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে স্প্যানিশ সিভিল গার্ড। শিশুটি নিজেকে নাবালক হিসেবে দাবি করার পরেও তাকে ফেরত পাঠানোর প্রাথমিক উদ্যোগ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বর্তমানে সেউটার প্রধান অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষ অবস্থান করছে। মাত্র ৬০০ জনের জায়গা থাকলেও সেখানে সংকুলান হচ্ছে না বিপুল সংখ্যক মানুষের। ফলে খাদ্য ও আবাসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক অভিবাসী বাধ্য হয়ে সমুদ্রসৈকত কিংবা পাহাড়ি এলাকায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *