রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের নতুন চালান আগামীকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। Mookto News জানতে পারে যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরবরাহকৃত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার এই জ্বালানি পৌঁছানোর কথা থাকলেও, কিছু অনিবার্য কারণে তা কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। একই সময়ে, প্রথম ইউনিটের অটোমেটিক চাপ প্রশমন ভালভের একটি জটিল পরীক্ষা টানা দুই মাসের প্রচেষ্টায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে মাত্র একটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে।
Mookto News নিশ্চিত করে যে, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এই জ্বালানি পরিবহনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক দফা সময় পরিবর্তনের পর সর্বশেষ ১ অক্টোবর পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে রোসাটমের নতুন সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরের দিকে এই চালানটি ঢাকায় পৌঁছাতে পারে। জানা গেছে, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর দেড় বছরের মধ্যে কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়, আর এই বাড়তি জ্বালানিই এখন বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত জ্বালানি পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান জানান, জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকায় চীন হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা জানতে পারি যে, ইউরেনিয়াম পরিবহনের সুনির্দিষ্ট রুট নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে কোনো প্রতিকূলতা দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে চীন হয়ে নতুন রুট ব্যবহারের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান জানান, প্রথম ইউনিটের জন্য ১২টি টিপিএস আসার কথা রয়েছে এবং সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে তবেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
