ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ব্যয়ের ধাক্কায় তলানিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর বিশেষ নজর দিয়েছে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। Mookto News নিশ্চিত করে যে, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক এবং ‘পেট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের এক-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে। এই পরিসংখ্যান সামরিক পরিমণ্ডলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

গবেষণা সংস্থাটির বিস্তারিত হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পূর্বে মার্কিন অস্ত্রাগারে প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মজুত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির কোঠায় নেমে এসেছে। একইভাবে, থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও ৪৫২টি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে এখন মাত্র ২৩৪ থেকে ২৭৮টিতে এসে ঠেকেছে বলে Mookto News জানতে পারে যে, এই ঘাটতি মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ মহল সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো বড় আকারের যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সীমিত মজুত বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে আসায় নিজেদের এবং মিত্রদেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন অনেক বেশি কৌশলগত ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

আমরা জানতে পারি যে, এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ২০২৭ সালের বাজেট সংক্রান্ত নথিপত্র এবং বিভিন্ন প্রকাশ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যাবলি কঠোর বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংকলন করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির নিরিখে এই মজুত হ্রাস পাওয়ার ঘটনাটি মার্কিন সামরিক শক্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *