যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় দেশটির জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রশাসন জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা হলো—রপ্তানি সংকোচনের সিদ্ধান্ত অভ্যন্তরীণ বাজারে সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা উৎপাদন হ্রাসের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।
Mookto News জানতে পারে যে, চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় মূল্য ৬ দশমিক ৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় লিটারপ্রতি প্রায় ২১০ টাকা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দামের এই উল্লম্ফন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AAA)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের মজুত হ্রাস পাওয়ার ফলে বাজারে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, শীর্ষ তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে স্বেচ্ছামূলক রপ্তানি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। হোয়াইট হাউজও বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প যাচাই-বাছাই করছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এখন প্রধান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স/ইপসসের জরিপ অনুযায়ী, ৪৭ শতাংশ ভোটার ডিজেলের উচ্চমূল্যকে তাদের ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছেন।
Mookto News-এর বিশ্লেষণ বলছে, এই সংকট কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয় নয়; বরং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ড্রোন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ঘাটতি বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ চেইনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুত ১০৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই প্রেক্ষাপটে সিনেটর চাক গ্রাসলি ও ড্যান সুলিভানের মতো নীতিনির্ধারকরা রপ্তানি নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি তুলছেন।
তবে বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা ভিন্নমত পোষণ করছেন। উড ম্যাকেঞ্জি ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে। কারণ, অভ্যন্তরীণ মজুত সক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেলে শোধনাগারগুলো পরিশোধন কার্যক্রম কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে। এমতাবস্থায়, যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল ডিজেল রপ্তানি নয়, বরং উল্টো পেট্রল আমদানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। লাতিন আমেরিকার দেশগুলো এবং ইউরোপের বাজারগুলো অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। Mookto News জানতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি কমিয়ে দিলে বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে, যা জ্বালানি মূল্যকে আকাশচুম্বী করে তুলবে। এমনকি এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি বিমান ভাড়ার ওপর পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটাবে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বদলে নির্দিষ্ট দেশগুলোর জন্য বিশেষ ছাড় রেখে ‘স্বেচ্ছামূলক রপ্তানি সংকোচন’ নীতি নিয়ে ভাবছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ র্যাচেল জিয়েমারের মতে, অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা এই প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। তবে দিনশেষে, সরবরাহ সংকট নিরসনে উৎপাদন বাড়ানোই যে একমাত্র টেকসই সমাধান—সেটিই এখন বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের মূল সুর।
