সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতার অভাব এবং যোগসাজশের মাধ্যমে টেন্ডার বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যে। Mookto News জানতে পারে যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে টেন্ডারে ইচ্ছে করেই বিশেষ ও জটিল শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য–ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন’ শীর্ষক কর্মশালায় মন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয়ে এ ধরনের অনিয়ম অডিট প্রক্রিয়ায় নিয়মিত উঠে আসছে। তিনি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, মন্ত্রণালয়ের একটি ফাইল যাচাইকালে অসংগতি পাওয়ায় তিনি বারবার ব্যাখ্যার দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান আপিল করলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়, যা মন্ত্রীর প্রাথমিক সন্দেহকেই সত্য প্রমাণ করে। একইসঙ্গে, অডিট আপত্তির ভয়ে অডিটরদের ঘুষ দেওয়ার প্রবণতাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
পরিকল্পনাহীন কেনাকাটার খেসারত যে জনগণের ওপর পড়ে, তাও স্পষ্ট করেন মন্ত্রী। Mookto News নিশ্চিত করে যে, বিগত সময়ে ১১ কোটি টাকা মূল্যের দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকায় কেনা হলেও বাংকার নির্মাণের অভাবে সেগুলো ফরিদপুর ও খুলনায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এই ধরণের অপচয় জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) পরিচালিত গবেষণায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, দেশের স্বাস্থ্য খাত চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নয় মাসব্যাপী এই গবেষণায় আট বিভাগের ২২টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে জরিপ চালানো হয়। গবেষণার তথ্যমতে:
- বাজেট অব্যবস্থাপনা: জরিপভুক্ত ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেই বছর শেষে অর্থ অব্যয়িত থাকে। অডিট আপত্তির ভয় এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের অভাবই এর প্রধান কারণ।
- ওষুধ সংকট: সরকারি হাসপাতালে ওষুধের প্রাপ্যতা ভয়াবহ পর্যায়ে কমেছে। মেডিকেল কলেজগুলোতে মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে। এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) সক্রিয় ভূমিকা রাখলে এই হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
- জনবল সংকট: স্বাস্থ্য খাতে বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের পদ শূন্য। জনবল না থাকায় অনেক হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, রিএজেন্টের অভাব, অকেজো যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ জনবলের অভাবেই দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। Mookto News জানতে পারে যে, সেবা ব্যাহত হওয়ার জন্য মূলত ৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রে রিএজেন্টের সংকট এবং ৩৪ শতাংশ ক্ষেত্রে অকেজো যন্ত্রপাতি দায়ী। কেবল বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং অর্থের কার্যকর ব্যবহার এবং সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করাই এখন স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
