জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান সংসদীয় রাজনীতি, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। Mookto News জানতে পারে যে, বর্তমান সংসদকে ঘিরে দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ জনগণ এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংসদের প্রতিটি অধিবেশন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, ফলে সংসদ সদস্যদের প্রতিটি বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত সরাসরি জনমতের মুখোমুখি হচ্ছে।
সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজের মূল লক্ষ্য ও অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার জানান, তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সংসদীয় রীতিনীতি বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে বদ্ধপরিকর। Mookto News নিশ্চিত করে যে, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ, এই সংসদের প্রায় ৯৯ শতাংশ সদস্যই অতীতে গুম, আয়নাঘরের নির্যাতন, কারাবাস কিংবা নির্বাসনের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছেন, যা বিশ্বের সংসদীয় ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।
রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের প্রাণকেন্দ্র হলো সংসদ। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে সংসদকেই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত থাকে অবাধ বিতর্ক এবং গঠনমূলক সমালোচনার মধ্যে। যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স বা ভারতের লোকসভার মতো বাংলাদেশেও সংসদীয় বিতর্কের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
Mookto News জানতে পারে যে, কায়সার কামাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক নিয়ে তার নিজস্ব মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তিনি স্বাধীনতার পরবর্তী একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রক্রিয়াটিকে তিনি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
পরিশেষে, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জাতীয় সংসদই ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।
