পুলিশের পদোন্নতি ঘিরে তুঙ্গে অস্বস্তি: পর্দার আড়ালে বড় রদবদলের ইঙ্গিত।

বাংলাদেশ পুলিশে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। Mookto News নিশ্চিত করে যে, পুলিশের পাঁচটি শূন্য পদে পদোন্নতি দেওয়ার লক্ষ্যে ২৬ জন ডিআইজি’র বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) এবং সার্ভিস রেকর্ড অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অভ্যন্তরে নানামুখী বিতর্ক ও অস্বস্তিকর আলোচনা দানা বেঁধেছে।

Mookto News জানতে পারে যে, পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার বাধাগ্রস্ত করতে প্রায় তিন দশক আগের কিছু পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নন—এমন অনেক দক্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিসিএস ১৫ ও ১৭ ব্যাচের কর্মকর্তাদের ওপর এই অপপ্রচারের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রশাসনিক বিভিন্ন সূত্র থেকে Mookto News নিশ্চিত হয়েছে যে, ২০১৮ সালে পুলিশ সদর দপ্তরের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি গাছ অপসারণের ঘটনাকে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছে। তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে গাছটি অপসারণ করা হলেও, এখন অনেক কর্মকর্তার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে, যারা ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জড়িতই ছিলেন না। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, রাতের অন্ধকারে ঘটা ওই ঘটনাকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেকের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিগত সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের অজুহাতে তারা বারবার পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও যদি মেধা ও পেশাদারিত্বের চেয়ে রাজনৈতিক তকমাকে বড় করে দেখা হয়, তবে তা পুলিশের চেইন অব কমান্ড ও বাহিনীর মনোবলকে দুর্বল করে দিতে পারে। Mookto News জানতে পারে যে, পদোন্নতির পাঁচটি পদের বিপরীতে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার সুযোগ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের এই ধারা চলমান রয়েছে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শকরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং স্বচ্ছ পদোন্নতি প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে তা সামগ্রিক পুলিশ সংস্কারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের মতে, ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে পদোন্নতি আটকে দেওয়া প্রশাসনের পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে মেধার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। Mookto News প্রত্যাশা করে যে, প্রশাসন কোনো ধরণের বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে সামগ্রিক কর্মদক্ষতা ও সততাকে পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *